দ্যা ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লা: শিক্ষাক্রম না চললেও সনদের ছড়াছড়ি

0
20

এভিএএসরিপোটঃ কোনো শিক্ষা কার্যক্রম চলছে না। অথচ চার বছর মেয়াদি বিভিন্ন ডিগ্রির সনদ বিতরণ করে যাচ্ছে দ্যা ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লা। এই সনদ নিয়ে চাকরি করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছে সনদধারীরা। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহস্রাধিক সনদ বিতরণ করছে এমন ধারণা করছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ইউজিসির কর্মকর্তারা আরো জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতিও দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। আদালতের নির্দেশনা নিয়ে পরিচালনার কথা থাকলেও যে ঠিকানায় বিশ্ববিদ্যালয়টি পরিচালিত হচ্ছে সেখানে তার হদিস মিলছে না। শনিবার (৭ মার্চ) ইত্তেফাক পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন নিজামুল হক।

প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে ছয় বার চিঠি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এই চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিষয়ে করণীয় নির্ধারণের সিদ্ধান্ত চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে কোনো জবাব পায়নি কমিশন। ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল থেকে এভাবে চিঠিগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ইউজিসির চিঠি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা অনিয়মের বিষয় বর্তমান শিক্ষাসচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, আগামী সপ্তাহেই তিনি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবেন।

তথ্য অনুযায়ী, দ্যা ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লা সরকারের অনুমতি লাভ করে ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দে । তবে নানা অনিয়মের কারণে সরকার বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম বন্ধ করে ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দের ২২ অক্টোবর। ঐ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি কুমিল্লায় পরিচালিত হতো। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সরকারের বন্ধ আদেশের বিরুদ্ধে আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করলে আদালত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন লাভ করে। আদালতের নির্দেশনার আলোকে বিশ্ববিদ্যালয়টির ঠিকানা ৯/বি, পলওয়েল কারনেশন, উত্তরায় পরিচালনার কথা। কিন্তু সেখানেও বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম চলছে না।

ফলে কীভাবে তারা সার্টিফিকেট বিতরণ করছেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দ্যা ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লার বিতরণ করা একাধিক সনদ কমিশনের কাছে এসেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো ইউজিসির পরিচালক (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগ) ড. মো. ফখরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমানে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্যদের বিরুদ্ধে মঞ্জুরি কমিশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া এ বিশ্ববিদ্যালয়টির আরেকটি পক্ষ মালিকানা দাবি করে ইউজিসিতে চিঠি দিয়েছে। উচ্চ আদালতেও রিট পিটিশন দায়ের করছে তারা।

দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয়টি কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করার দাবি সংশ্লিষ্টদের।