তোর মাকে যেভাবে খুন করেছি তোকেও খুন করবো, তালায় এমন হুমকি দিয়ে সৎ মা ও সৎ ভায়ের আঘাতে মারাত্বক জখম হলেন নেপাল দাশ(৪২) ।

0
152

আকবর হোসেন,তালাঃ তালায় পারিবারীক কলোহর জেরে ২২ মে বিকালে তালা মাগুরা ইউনিয়নে ধুলান্ডা গ্রামে নিজের সৎ মা ও সৎ ভায়েরা মিলে পিটিয়ে মারাত্বক জখম করেছে মৃত বিষ্টুপদ দাশের পুত্র নেপাল দাশ(৪২) এবং তার স্ত্রী কৃষ্ণা দাশ । নেপাল দাশ ও তার স্ত্রী বর্তমানে তালা হাসপাতালে ভর্তি আছে ।
ঘটনার বিবরনে নেপাল দাশ এর স্ত্রী বলেন,গত ২২ মে আমার শাশুড়ী ও ভাসুর তার ছেলে ও স্ত্রীরা মিলে আমার ঘরের টালী খুলতে থাকে । এ সময় আমার স্বামী টালী খোলার কারন জিঞ্জাসাবাদে আমার স্বামীর সৎ মা উমা রানী(৬৫) তার ২ ছেলে পবন দাশ(৩৮) উত্তম দাশ(৩৬) এবং গোপাল চন্দ্র দাশ(৫৫) ও গোপাল দাশের পুত্র পলাশ দাশ(২৮) বেধড়ক পিটায় । এবং মাথায় আঘাত করে মারাত্বক জখম করে । এ সময় আমি ঠেকাতে গেলে তারা আমাকেও চড়,কিল ঘুষি মারতে মেরে আহত করে । তারা আমার স্বামীকে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকে, তোর মাকে যেভাবে খুন করেছি তোকেও সেভাবে খুন করবো । তাদের আঘাতে আমার স্বামী মারাত্বক জখম হয়ে তালা হাসপাতালে ভর্তি আছে ।এ ব্যাপারে তালা থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে ।
এ ব্যাপারে তালা থানার অফিসার্স ইনচার্জ মেহেদী রাসেল বিষয়টি সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমার কাছে একটি অভিযোগ এসেছে । বিষয়টি তারা পারিবারীক ভাবে মেটানোর চেষ্টা করছে ।
মোঃ আকবর হোসেন
মোবাইল নং ০১৭১৯-৪৩২১০৪
তারিখ ঃ ২৪-৫-২০১৯

তালা হতে কাজ শেষে বাড়ীতে ,তালা মাগুরা ইউনিয়নে ধুলান্ডা গ্রামে মৃত বিষ্টুপদ দাশের পুত্রকে মায়ের মত খুন করার হুমকি দিয়ে তারই স্ত্রী সৎ মা উমা রানী(৬৫)ও ও সৎ ভায়েরা মিলে পিটিয়ে মারাত্বক আহত করেছে নেপাল দাশ(৪২)

তালা বালিয়া ভাঙ্গনকুল রক্ষায় ৫ কোটি টাকা প্রকল্প বাস্তবায়নে মূল উদ্যোক্তা সমিতি সভাপতি আমিনুল ইসলামসহ সমিতির বিরুদ্ধে সীমাহীন দূণীতির অভিযোগ
ইলিয়াস হোসেন,তালাঃ সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলায় তালা বালিয়া ভাঙ্গনকুল রক্ষায় ৫ কোটি টাকা প্রকল্পের মূল উদ্যোক্তা বালিয়া ভাঙ্গনকুল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির লিমিটেড এর সভাপতি আমিনুল ইসলামসহ প্রকল্পের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে উপ-প্রকল্প বাস্তবায়নে সীমাহীন দূণীতির অভিযোগ উঠেছে । প্রকল্প বাস্তবায়নে কোন শর্ত না মেনে কর্তাব্যক্তিদেরকে ম্যানেজ করে বীর দর্পে বেড়াচ্ছে বাস্তবায়ন কারী সমিতি । ভেস্তে যেতে বসেছে প্রকল্পের ৪ কোটি ৮২ লাখ ২৩ হাজার ১৯১ টাকার প্রকল্পটি । সরজমিনে তদন্তপূর্বক কাজের সঠিকতা যাচাই পূর্বক দূর্ণীতিগ্রস্থদের বিরুদ্ধে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দূণীতি দমন কমিশন,জেলা প্রশাসক,বিভাগীয় কমিশনারসহ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী ।
ঘটনার বিবরনে, ২০০৯ সালের আইলায় ক্ষতিগ্রস্থ কপোতাক্ষ নদের খেশরা ইউনিয়নে, বালিয়া, ডুমুরিয়া, শাহাজাতপুর ও খেশরা ৯৫০ হেক্টর জমির ৮০০ হেক্টরই লোনা পানিতে তলিয়ে যায়। ১২ কি:মি: দীর্ঘ নদী ৪/৫ টি স্থান ভেঙ্গে পুরো অঞ্চল প্লাবিত হয় । এতে পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি ভাঙ্গাসহ লবনাক্ত পানির কারনে বিভিন্ন প্রজাতির লক্ষাধিক গাছপালা মারা যায়। লবনাক্ত পানির ফলে নিচুজমিতে ফসলতো হয়নি উপরন্ত ৫/৭ বছরের মধ্যে প্রায় ৩শ’ হেক্টর উঁচু ফসলী জমিতেও কোন ফসল হয়নি। এখনও লোনা পানির প্রভাবে গাছপালা ঠিকমত জন্মায় না । বৃষ্টির সময় প্রায়ই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে ক্ষতি গ্রস্থ হয় এলাকার মানুষ ।
দুর্যোগে ক্ষতির হাত হতে রক্ষায় জন্য ক্ষুদ্রাকার পানিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায়, ৪ কোটি ৮২ লক্ষ ২৩ হাজার ১৯১ টাকা বায়ে ২০১৮ সালের জুন মাসের মধ্যে, ১২ কিঃমিঃ ভেড়িবাঁধ এবং ৭.৫ কিঃমিঃ খাল খননেন লক্ষে ৫২ টি এলসিএস দলের ১১০০ শ্রমিকের দ্বারা ৪ মাসের বাস্তবায়নে বালিয়া ভাঙ্গনকূল সাব প্রজেক্ট (এসপি নং-৬১০০১) হাতে নেয়। এছাড়া ঠিকাদারের মাধ্যমে ৩টি রেগুলেটর, ৪টি পাইপ স্লুইস এবং সমিতির অফিস ঘর নির্মাণসহ মাটির কাজ বাস্তবায়নে শর্ত সাপেক্ষে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। যার স্মারক নং ৪৬.০২.৮৭০০.০০০.০০.০০০.১৭.৩২১৪। তাং-০৪.১২.২০১৭। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ পায় বালিয়া ভাঙ্গনকুল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড। এর সভাপতি আমিনুল ইসলাম। তবে শুরু থেকেই প্রকল্পের অনিয়ম দূণীতি ফলে কাজের ফল ভোগ করতে পারছেনা দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাকাসি । প্রকল্প বাস্তবায়নে নথি নং-৪৬.০২.০০০০.১৪.০০৩.১৭.৩২০ এর অধিকাংশ শর্ত পূরণ করেনি প্রকল্প বাস্তবায়ন বালিয়া ভাঙ্গনকূল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিঃ।
বিশেষ করে পাবসস কতৃক গঠিত মান নিয়ন্ত্রণ উপ-কমিটি তদারকী ও অবকাঠামো বাস্তবায়নে গুণগতমান নিয়ন্ত্রনের নজরদারির অভাব । এছাড়া নথি নং-৪৬.০২.০০০০.১৪.০০৩.১৭.৩২১ এর শর্তানুযায়ী এলসিএস শ্রমীকদীয়ে দ্বারা মাটি খননেন পুরো কাজ বাস্তবায়ন করার কথা থাকলেও বেশীরভাগ কাজ মাটির কাজ স্কেভেটর মেশিন দিয়ে করা হয় । যে কয়জন শ্রমীকদিয়ে কাজ করানো হয়েছে তাদের বিলও পরিশোধ করা হয়নি । ডিজাইন ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী বাঁধ ও খালের মাটি কাজের টপ,বটম,হাইট,এবং স্লোপ,রেফারেন্স লাইন এর কাজ বাস্তবায়ন সঠিকভাবে করা হয়নি । বাঁধের দৃড়করণের ক্ষেত্রে ১৫০-২০০ মি:মি: দুরত্বে প্রতি স্তর পুরুত্বে মাটি ভরাট করে কোদাল/মুগুর দিয়ে বড় ধরণের ঢেলা/চাকা ভেঙ্গে দরমুজ দিয়ে দৃঢ়করণ করা, বাঁধের পার্শ্বঢালের আগাছা পরিষ্কার করে সিঁড়ির মত ধাপ কেটে বেঞ্চিং তৈরী করে মাটি ফেলা, দুই পাশের ঢালে ঘাস লাগানোর কথা থাকলেও কোনটি সঠিকভাবে করা হয়নি । অনেক কাজ মোটেও করা হয়নি । যেটা সরজমীনে গেলে দেখা যাবে । নাম না বলা শর্তে এলাকাবাসীসহ সুশিল সমাজের ব্যক্তিবর্গরা জানান, ভাঙ্গনকুল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সভাপতি আমিনুল ইসলাম খুব ক্ষমতাধর ব্যক্তি । তাহাছাড়া তিনি খেশরা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হওয়ায় কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চায়না । তিনি সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা ফাঁকি দিয়ে কর্মকর্তাসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে ম্যানেজ করে কাজ না করেও বীর দাপটে আছে । সরজমিনে তদন্তপূর্বক কাজের সঠিকতা যাচাই পূর্বক যারা এর সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দূণীতি দমন কমিশন,জেলা প্রশাসক,বিভাগীয় কমিশনারসহ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ।
এ প্রকল্পের মূল উদ্যোক্তা বালিয়া ভাঙ্গনকুল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানান, কাজে কোন অনিয়ম হয়নি । প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে গত ২০১৮ সালে এপ্রিল মাসে । তবে মোট প্রকল্পের ১কিঃমিঃ বাঁধ এবং ৪শত মিটার খাল কাটার কাজ এখনও শেষ হয়নি । তাহাছাড়া কাজের অর্ধেক টাকা এখনও বাকী । টাকা পেলে কাজ করে দেয়া হবে ।
এ বিষয়ে তালা এলজিইডির প্রকৌশলী আবু সাঈদ মোঃ জসিম বলেন, প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে হয়নি । কাজ সঠিকভাবে হলে এতদিনে শেষ হয়ে যেত । বর্তমান কাজটি চলমান আছে ।

তারিখঃ ২২-৫-২০১৯