টি আর এম তো নয় এযেন অভিশাপ, সাতক্ষীরা তালায় টি আর এম এর কারনে সর্বশান্ত তালা শালিখার কয়েক হাজার মানুষ

0
75
সাতক্ষীরায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ গ্রেপ্তার হওয়া এক আসামি নিহত
সাতক্ষীরায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ গ্রেপ্তার হওয়া এক আসামি নিহত

,তালা প্রতিনিধি ঃ সাতক্ষীরা তালা শালিখার টি আর এম অধিগ্রহনকৃত জমির বেড়াজালে কয়েক হাজার মানুষ। ২০১১-২০২০ সাল পর্যন্ত চালু হওয়া টিআরএম ১০ বৎসরে মধ্যে জমি অধিগ্রহনের টাকা পেয়েছে মাত্র ২বার। এ কারনে সর্বশান্ত মানুষ গুলে অনাহারে অনাদারে দিনযাপন করছে। টিআর এম নাকি অভিশাপ এ প্রশ্ন ভুক্তভোগীদের।
জানা যায়, কপোতাক্ষ নদের নাব্যতা ফেরানোর জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় সরকার ২০১১ সালে ২কোটি ৬২লক্ষ টাকায় কপোতাক্ষ নদ খনন করে। ২০১১ সালে তালা শালিখায় অস্থায়ীভাবে ৬হাজার বিঘা জমি অধিগ্রহন করা হয়। অধিগ্রহনের সময় বলা হয়েছিলো প্রতি বৎসর অগ্রিম টাকা পরিশোধ করা হবে। সেই আংগীকে ঐএলাকার মানুষ তাদের জমিতে পলিমাটি তুলতে দিলে টিআরএম প্রকল্প চালু হয়। সহজশর্তে পরিশোধের টাকা থাকলেও জমির নাম পত্তন,এসএ পরচা,দাখিলা,ক্রয়কৃত জমির পিট দলীল ইত্যাদী প্রয়োজনীয় কাগজ দাখিল করে এ পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ জমির মালিক তাদের অধিগ্রহনকৃত জমির হারি পেয়েছে। জাগজপত্রের জটিলতার জন্য বাকী জমির মালিকগন ১০ বৎসর যাবৎ কোন সুবিধা ভোগ করতে পারছে না। যাদের কাগজপত্র ঠিক আছে তারাও ২০১১-২০১২ মোট ০২ বৎসরের টাকা পেয়েছে। বাকী ৮ বৎসরের টাকা না পাওয়ার ফলে অবহেলা ও অনাদারে ধুকে ধুকে মরছে। বেশীরভাগ মধ্যবৃত্ত মানুষের জমি টিআরএম এলাকায় থাকায় তারা একদিকে যেমন কামলা দিতে পারছে না অন্যদিকে খাবারের টাকা জোগাড় করতে বাস্তভিটা পর্যন্ত বন্ধক বা বিক্রি করতে হচ্ছে। টিআরএম এলাকার জমিতে কোন অর্থ না পাওয়ায় জমি বিক্রি করতে চাইলে জমির ন্যায্যদাম পাওয়া যাচ্ছে না ভুক্তভোগীরা। ফলে অসহায় মানুষ গুলে অতি কষ্টে জীবন যাপন করছে। কাগজ পত্রের অভাবে যে সকল জমির মালিকগন মোটেও টাকা পায়নি তাদের অবস্থা আরও মর্মান্তিক। আবার পারিবারিকভাবে আপস বন্ঠনমতে জমি দখলে থাকলেও নামপত্তন করার সময় দাগে দাগে যাওয়ার কারনে জমি থাকা সত্ত্বেও পুরো জমির টাকা পাচ্ছে না । ফলে জমি অনাদায়ী থেকে যাচ্ছে। এ বিষয়ে জমির মালিকসহ সুশিল সমাজের ব্যক্তিবর্গরা মনে করেন, বর্তমান মাঠ জরিপ অনুয়ায়ী টিআর এম এর টাকা পরিশোধ করলে সকলেই টাকা পাবেন বলে ধারনা করছেন সকলে। অন্যদিকে টিআর এর আওতায় পলি মাটি তোলার কথা থাকলেও প্রচন্ড ¯্রােতের কারনে ছোট ছোট খালগুলো নদীর রুপ ধারন করেছে। ফলে জমির মালিকরা পড়েছে মহা বিপদে। একদিকে ৮বৎসর যাবৎ জমির হারী পানি উন্নয়ন বোর্ড বা সরকার দিচ্ছেনা। অন্যদিকে উচু জমি ভেঙ্গে নদীতে চলে যাওয়ার কারনে হতভম্ব হয়ে পড়েছে জমির মালিকরা।
এদিকে কাহারো নজর না থাকায় টিএরএম এর আওতায় জমির মালিকদের অত্যান্ত কষ্টে অবহেলায় অনাহারে জীবন যাপন করতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তালা উপজেলা চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার জেলা প্রশাসক মহদয়ের নিকট উপস্থাপন করলেও কোন সুরাহা হচ্ছে না।
ভুক্তভোগী মানুষের একান্ত দাবী অতি জরুরী সহজ শর্তে টি আর এম প্রকল্পের সকল টাকা পরিশোধের জন্য জেলা প্রশাসক মহদয়সহ মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে তালা উপজেলা চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার বলেন, বিষয়টি অত্যান্ত মর্মান্তিক। জমি থাকার ফলেও মানুষগুলোকে না খেয়ে থাকতে হয়। আমি এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মহদয়কে অবহিত করেছি। তিনি অতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছেন।