খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (রঃ) ছিলেন বাঙালি মুসলমানের রেনেসাঁযুগের অগ্রগণ্য এক উজ্জ্বল মনস্বী- উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর রশিদ আসকারী।

0
86

কালিগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ অসামান্য মনীষার বিকিরণে, কর্মের ব্যাপ্তিতে, সুচিন্তার উৎকর্ষে খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ছিলেন বাঙালি মুসলমানের রেনেসাঁযুগের অগ্রগণ্য এক উজ্জ্বল মনস্বী। শিক্ষা চেতনায় তাঁর গভীর পর্যবেক্ষণশক্তি, ব্যক্তিত্বের অভিনবত্ব, নিরীক্ষাপ্রবণতা আর স্বজাতিকে ক্রমশ উত্তরণের প্রয়াসে সময়ের প্রয়োজনে তিনি অনিবার্য হয়ে উঠেছিলেন। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অগ্রগণ্য ভমিকার বাইরেও অবিভক্ত বাংলার শিক্ষা বিস্তারে তিনি অসংখ্য-অসামান্য অবদান রেখেছিলেন। পরীক্ষার খাতায় রোল নম্বর লেখার প্রবর্তনসহ অসংখ্য শিক্ষা সংস্কারে তিনি অগ্রদূতের ভূমিকা পালন করেছিলেন। গতকাল ২৮ ডিসেম্বর শনিবার সকাল ১০ টায় নলতা নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ও পাক রওজা শরীফের শ্রদ্ধেয় খাদেম আলহাজ্জ মৌঃ আনছারউদ্দিন আহমদ এর বিশেষ তত্ত্বাবধানে পাক রওজা শরীফ প্রাঙ্গণে অবিভক্ত বাংলা ও আসামের শিক্ষা বিভাগের সহকারী পরিচালক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা সংস্কারক, দার্শনিক, আহ্ছানিয়া মিশনের প্রতিষ্ঠাতা, সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদ সর্বজন শ্রদ্ধেয় ছুফীসাধক ওলী-এ কামেল হজরত শাহ্ছুফী আলহাজ্জ খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.) এঁর ১৪৬তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সেমিনার ও বিনামূল্যে ৩৫ তম চক্ষু ক্যাম্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক এমপি’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর রশিদ আসকারী কথাগুলো বলেন। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের গবেষক ড. আবদুল মজিদ বলেন, অবিভক্ত বাংলার শিক্ষা বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার একবারে সূচনালগ্ন হতে প্রতিষ্ঠার দিন পর্যন্ত প্রত্যক্ষ, বলিষ্ঠ-সাহসী ভূমিকা পালন করেছিলেন আহ্ছানউল্লা। ১৯১২ সালে নাথান কমিশনের টিচিং সাব-কমিটির সদস্য, ১৯১৪ সালে হর্ণেল কমিটির সদস্য, ১৯১৭ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিশনের কাছে সুস্পষ্ট বক্তব্য, ১৯১৯ সালে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার খসড়া আইনের ধারা-উপধারার ওপর মতামত প্রদানকালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট বিশেষ কমিটিতে একমাত্র বাঙালী মুসলমান সদস্য খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের চাপের মুখেও নিজের অবস্থানে অটল থাকেন। খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ইনস্টিটিউটের পরিচালক মনিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ, নলতা আহ্ছানিয়া মিশনের সাবেক সভাপতি আলহাজ্জ মুহাম্মদ সেলিমউল্লাহ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মজিবর রহমান, খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এ এফ এম এনামুল হক, কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোজাম্মেল হক রাসেল, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের হেল্থ বিভাগের পরিচালক ইকবাল মাসুদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-পরিচালক রেজাউল করিম, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. কাজী হাবিবুর রহমান, কলকাতা আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম মহিউদ্দীন প্রমুখ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ “খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়” উপস্থাপন করেন প্রবন্ধকার অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক বিশিষ্ট সাহিত্যিক গাজী আজিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্জ মো. এনামুল হক। সেমিনারে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার হুসেন, কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন শাখা মিশনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ প্রায় ৭ হাজার ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। সেমিনার শেষে মুসলিম উম্মাহ, দেশ ও জাতির সম্মৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন আলহাজ্জ হাফেজ মো. শামছুল হুদা।