অর্থাভাবে অনার্স ( রাষ্ট্র বিজ্ঞান) তৃতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্রী শারিরীক প্রতিবন্ধী সীমার উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন ব্যহত

0
170

মোঃ আকবর হোসেন, তালাঃ অর্থাভাবে শারিরীক প্রতিবন্ধী সীমার উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন ব্যহত হচ্ছে। সে তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের প্রশাদপুর গ্রামের দরিদ্র ভ্যান চালক আজিজ গোলদারের ছোট মেয়ে। শারিরীক প্রতিবন্ধী সীমা আক্তার তালা মহিলা ডিগ্রী কলেজের অনার্স ( রাষ্ট্র বিজ্ঞান) তৃতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্রী।
ভ্যান চালক পিতা ৭জন সদস্যের ভরনপোষণ চালাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। তার উচ্চ শিক্ষার আশংখা রীতিমত ভাবিয়ে তুলেছে। অর্থাভাবে অকালেই ঝরে যেতে বসেছে একটি সম্ভাবনাময় মেধাবী ছাত্রীর শিক্ষা জীবন।
সরজমিনে গিয়ে সীমা আক্তারের বাড়িতে গিয়ে,তার পিতা আজিজ গোলদারের কথা হয়। তিনি বলেন তার তিনি ৩টি কন্যা সন্তানের জনক তিনি। তার কোন ছেলে সন্তান নাই। বড় মেয়ে রমেছা(২৯) ,মেঝ মেয়ে রেহানা(২৫),ছোট মেয়ে সীমা আক্তার(২১)। তার উপর দুই মেয়ে রেহানা ও সীমা শারিরীক প্রতিবন্ধি। ভিটা বাড়ির ৩ শতক জমি ও একটি ভ্যান তার সম্পদ। পরিবারে মা স্ত্রী ৩মেয়ে ও নাতীসহ৭ সদস্যের সংসার। ভ্যান চালিয়ে ৭ সদস্যের পরিবারের ভরনপোষণ চালাতে হিমসিম খেতে হয়। অসুখ বিসুখে পরিবারের সদস্যদের ঔষধ কিনতে পারে না। তার উপর ২টি কন্যা জন্ম থেকে প্রতিবন্ধী। অর্থাভাবে তাদের চিকিৎসা পর্যন্ত করাতে পারিনি।
তার উপর বড় মেয়ে রোমেছা এক সন্তানের জননী স্বামী পরিত্যক্ত হয়ে ৩-৪ বছর বাবার বাড়ীতেই অবস্থান করছে। মেঝ রেহেনা (২৪) শারীরিক প্রতিবন্ধী। স্বাভাবিক ভাবে চলাচল করতে পারে না। মানষিক প্রতিবন্ধীও বটে। তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত লেখা পড়া করে আর পড়তে পারেনি।
অজিজ গোলদার এপ্রতিবেদককে আরো জানান, টালির চালের ছোট একটি মাটির ঘরে তিন কন্যা নিয়ে বসবাস করেন। যে ঘরটিতে তারা বসবাস করে সে ঘরে সবার ঠিক মতো ঘুমানোর জায়গা নেই। তার উপর শীত বর্ষা কালে তো দুঃখেরই শেষ নেই।
শারিরীক প্রতিবন্ধী সীমা আক্তার এপ্রতিবেদককে বলেন, ২০১৪ সালে খলিলনগর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে জিপিএ ৪.৩৮ পেয়ে এসএসসি ও ২০১৬ সালে তালা মহিলা ডিগ্রী কলেজ থেকে ৪.০৮ পেয়ে এইচএসসি পাশ করে পিতার আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন পর্যন্ত করতে পারেনি। বর্তমানে সে তালা মহিলা ডিগ্রী কলেজের অনার্স(রাষ্ট্র বিজ্ঞান)তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। লেখা পড়া শেষ করে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে প্রতিবন্ধীর অভিশপ্ত জীবন থেকে মুক্তি পেতে চায় সীমা। সমাজে কাহারো বোঝা হয়ে নয়,নিজে স্বাবলম্বী হয়ে অভাব অনাটনে সংসারে পিতার পাশে দাঁড়তে চান তিনি। কিন্তু অসহায় দরিদ্র পিতার পক্ষে তার লেখা পড়া করানো সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অর্থাভাবে অকালেই ঝরে যেতে বসেছে একটি সম্ভাবনাময় মেধাবী ছাত্রীর শিক্ষা জীবন।
সীমা’র মায়ের আকুতি আমার প্রতিবন্ধী মেয়েটি যদি কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি বা সরকারী সহযোগিতার সুযোগ পেত তাহলে লেখা পড়া শিখে নিজের পায়ে দাড়াতে পারতো। সীমা আমাদের অসহায় পরিবারকে অন্ধকার থেকে আলোর মুখ দেখতো।
পরিবারের পাশাপাশি এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সমাজের স্ব-হƒদয় ও বিত্তবান ব্যক্তিরা প্রতিবন্ধী সীমার পাশে দাড়িয়ে উচ্চ শিক্ষার আশা জাগিয়ে তুলবেন । প্রতিবন্ধী সীমা কারো বোঝা নয়, বেঁচে থাকতে চায় নিজের মত করে সমাজের আর ১০ টি সুষ্ঠু স্বাভাবিক মেয়ের মত। আর তার জন্য প্রয়োজন উচ্চ শিক্ষিত হতে পড়া-লেখা চালিয়ে যাওয়া। এজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।